আনোয়রায় খালের পানিতে বিষ, ৮ মহিষের মৃত্যু

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানির (সিইউএফএল) নির্গত গ্যাসের বর্জ্য বারশতের বসুন্ধরা মাছের চরে গোবাদিয়া খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীতে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে ওই খাল ও নদীর পানি। বিভিন্ন সময়ে এ খালের পানি খেয়ে মহিষের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়।

আজ বৃহস্পতিবার (০৬ মে) দুপুরে গোবাদিয়া খালের পানি খেয়ে স্থানীয়দের ৮টি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। এতে আনুমানিক ৬ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয়রা বলছেন, শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি নদী ও খাল-বিলে ফেলার কারণে দূষিত ও কালো হয়ে গেছে এসব জলাশয়ের পানি। এতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে। শুধু তাই নয় বিষাক্ত পানিতে নিজেরা গোসল না করলেও গরু-মহিষকে গোসল করাতে গিয়ে চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। গবাদি পশুর দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রোগ।

এদিকে, নদীর দূষিত পানি দিয়ে সেচ দেওয়ায় নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের সবজি ও ধানের চারা। এই এলাকায় সেচ যোগ্য পানির সঙ্কট দেখা দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

এ শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, আনোয়ারায় কর্ণফুলীর নদীর কূল ঘেষে গড়ে উঠেছে সিইউএফএল। এই কারখানার অধিকাংশ কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার না করে বর্জ্যগুলো সরাসরি বাহিরের খালের মাধ্যমে নদীতে ফেলছে। কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার থাকলেও অতিরিক্ত খরচের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মানুষের জীবন ও জীবিকার অন্যতম অবলম্বন আবাদি জমি, নদ-নদী। আবাদি জমি ও নদীর পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে। শিল্পবর্জ্য ও অবৈধ দখলের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে নদী আর আবাদি জমি।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, কারখানার বিষাক্ত পানি স্থানীয়দের অবগত না করে খালে ছাড়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মোহাম্মদ এরফান আলীর ৩টি, আবদুল মালেকের ৩টি ও আনোয়ার হোসেনের ২টি মহিষ বিষাক্ত বর্জ্য পানি পান করে মারা যায়। এসব বিষয় সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের কোনো মানুষও মনে করে না। অভিযোগ নিয়ে গেলে আমাদের তাড়িয়ে দেয়। গেইটে সিকিরিউটিদের বলে রাখে যাতে কোনো স্থানীয় ভেতরে অভিযোগ নিয়ে আসতে না পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ এরফান আলী দাবি, সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের কোনো ধরনের অবগত না করে বিষাক্ত পানি-বর্জ্য ছাড়াতে তার মহিষের মৃত্যু হয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের স্থানীয়দের প্রায় আড়াইশ’ গরু-মহিষ নিয়ে আতঙ্কে আছি। দুপুর পর্যন্ত আটটি মহিষ মারা গেছে। আমরা খুঁজে দেখছি আর কোথাও মরে পড়ে আছে কিনা। এরআগেও খালের পানি খেয়ে মহিষের মৃত্যু হয়েছে। সেটার ক্ষতিপূরণও দেয়নি সিইউএফএল কতৃপক্ষ।

স্থানীয় চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ্ বলেন, সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ বর্জ্য পানি ছাড়ার সময় মাইকিং না করায় প্রায় সময়ই এ দূর্ঘটনা ঘটছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে আজ স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক সময়ে বিষাক্ত পানি ছাড়ার দিনক্ষণও জানিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন স্থানীয়দের কোনো প্রকার অবগত না করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে।

এ বিষয়ে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জুবায়ের আহমেদ বলেন, সিইউএফএল এর বিরুদ্ধে এরকম আরো অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি আমরা খতিয়ে ব্যবস্থা নিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *