চট্টগ্রামে ওয়াসার পাইপলাইন লিকেজে সড়কে বেহাল দশা

নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রামে ওয়াসার পাইপলাইন লিকেজের কারণে সড়কে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। পরিপাটি সড়কগুলোতে দেখা দিচ্ছে গর্তের। ফলে গর্তে জমে থাকা পানির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল। পানির লিকেজ বন্ধ না হওয়ায় দিনের পর দিন পানির জন্য হাহাকার বাড়ছে নগরজুড়ে।

নিমতলা বন্দর ট্রাক টার্মিনাল ও কাস্টম হাউস সংলগ্ন সড়কে ওয়াসার পাইপ লিকেজে পরবর্তী সৃষ্ট গর্তের কারণে বন্দরগামী ট্রাক ও অন্যান্য যান চলাচলে ঘটছে দুর্ঘটনা।

পানির চাহিদা মেটাতে ১৭ মার্চ থেকে নতুন প্রজেক্টে পানি সরবরাহ শুরু করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। যদিও ২০২২ সালে নতুন পাইপ লাইনের মাধ্যমেই এই প্রজেক্টে পানি সরবরাহের কথা ছিল। তবে পুরাতন পাইপলাইন ব্যবহার করে নতুন প্রজেক্ট শুরুর পর থেকে লিকেজের এই বেহাল দশায় নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম ওয়াসার অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণেই এমনটা হচ্ছে। আর এই বিষয়টি চট্টগ্রাম ওয়াসাকে জানিয়েও কোনো সুরাহা মিলছে না। তবে লিকেজ সমস্যার জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষ দায়ী করছে পুরাতন পাইপলাইনকে। গ্রাহকের পানির সমস্যা দূর করতে নগরজুড়ে পানির চাপ বৃদ্ধির কারণের পাইপলাইনের ওপর বেশ বড় ধরণের চাপ পড়েছে। আর এই চাপের কারণে পুরাতন পাইপলাইন ফেটে এসব ফাটল ও কানেকশন লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদ্য কারপেটিং করা পূর্ব মাদারবাড়ির মাঝিরঘাট সড়কটি পড়েছে ওয়াসার পাইপ বিষ্ফোরণের প্রকোপে। হোটেল পূর্বশার থেকে শুরু করে সড়কটির বিভিন্ন আংশে গত ৩ দিন আগে ওয়াসার পাইপ ফেঁটে পানি লিকেজের কারণে দেখা দিয়েছে বেশ কিছু গর্তের। শহরের ব্যস্ততম এই সড়কের এমন বেহাল দশায় যাতায়তে বিপাকে পড়তে হচ্ছে শত শত মালবাহী ট্রাককে।

একইভাবে, পুরান চান্দগাঁও থানার পাঠানিয়া গোদা এলাকার কয়েকটি সড়কেও একই চিত্র দেখা দিয়েছে। তবে ওয়াসার লিকেজ হওয়া পাইপলাইন থেকে বের হওয়া পানি এই এলাকার জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলেছে অন্যভাবে। তুলনামূলক নিচু এলাকা হওয়ার বিভিন্ন স্থানে নালা-নর্দমার ময়লা পানি আর ওয়াসার পানি মিশে জমে থাকছে।

এছাড়া নগরের বহদ্দারহাট, কালামিয়া বাজার, মুরাদপুর, ২ নং গেইট, টেক্সটাইল, লালখান বাজারের বাগঘোনা, এলাকার, কর্ণেলহাট, হালিশহর জি ব্লক, এইচ ব্লক, আগ্রাবাদ চৌমুহনীসহ বিভিন এলাকার প্রধান এ শাখা সড়কের ওয়াসার এই পাইপ লিকেজের কারণে একইধরণের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

নিমতলা এলাকার বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, একদিকে ওয়াসার পানি অপচয় হচ্ছে আর আমাদের এলাকায় পানি নেই। মাসে মাসে বিল ঠিকই দিতে হয়। ওয়াসার দেওয়া হেল্পলাইনে অভিযোগ করেও কোনো সুরহা পাইনি।

হালিশহর জি ব্লকের বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, গত এক মাস ধরে আমাদের এলাকায় এভাবেই চলছে। পুরো চট্টগ্রামের প্রায় জায়গাতেই একই চিত্র। মাসের পর মাস চলে গেলেও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কোনো খবর থাকে না। তারা ওতপেতে থাকে কখন নতুন রাস্তায় পিচ ঢালাই করবে, আর তারা উন্নয়নের নামে খোড়াখুড়ি করবে।’

একাধিক ট্রাক চালক বলেন, ‘এসব গর্তের কারণে নিমতলা-বন্দর এলাকায় প্রায়সময় যানজট লেগেই থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় রাতে। গত পরশু নিমতলায় ওয়াসার গর্তে একটি ট্রাক আটকে গিয়েছিল। দ্রুত এসব গর্ত ভরাট করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা হতে পারে।’

চট্টগ্রাম ওয়াসা মড-১ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘পূর্বের পাইপলাইনগুলো দেওয়া হয়েছিল এডজাস্ট ও পিভিসি পাইপ দিয়ে। এগুলো বহু বছর পুরাতন, তাই হাই প্রেশার নিতে পারে না। সকল গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করতে আমাদের পানির চাপ বাড়াতে হয়েছে, যার ফলে ভঙ্গুর এসব পাইপ থেকে লিকেজের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা প্রাইরিটি বেসিসে লিকেজ মেরামতের কাজ করছি। ’

এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পাইপলাইনগুলো মাটির প্রায় ১০-১২ ফুট নিচে। গর্ত করে লিকেজ শনাক্ত ও মেরামত করা আসলেই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর আমরা যে শুধু লিকেজ মেরামতের কাজই করছি তা না। গ্রাহকদের পানি না পাওয়া, ময়লা পানির সমস্যার সমাধান, উন্নয়ন প্রকল্পে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক ওয়াসার ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতসহ বিভিন্ন কাজ আমরা একসাথেই করে যাচ্ছি। যার কারণে আমরা একটু ধীরগতিতে এগুচ্ছি।’

ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘গ্রাহকেরা ঠিকমত পানি না পওয়ায় আমরা নতুন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পানির সরবরাহ করছি, আর সকলেই যাতে পানি ঠিকমত পায় তার জন্য পানির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছি। যার কারণে পুরাতন পাইপলাইনের দুর্বল অংশের কানেকশন লিকেজের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে এসব লিকেজ মেরামত করে যাচ্ছি।’

সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওয়াসার নতুন সংযোগে পানি সরবরাহ শুরু হলে এই সমস্যা আর থাকবে না। ইতোমধ্যে ৭০০ কি. মি. নতুন পাইপলাইনে আমরা স্থাপন করে ফেলেছি। কিছু সার্ভিস কানেকশন বাকি আছে। এই পাইপলাইনে কানেকশন ট্রান্সফার করে পানি সরবরাহ শুরু করলে ভবিষ্যতে কোনো ধরণের লিকেজ হবে না।’

এসব বিষয়ে জানতে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লার ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *