‘হুজির প্রধান অপারেশন সমন্বয়কসহ’ গ্রেপ্তার ৩

ঢাকা: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামির (হুজি) প্রধান অপারেশন সমন্বয়কসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
হুজি হুজির প্রধান অপারেশন সমন্বয়কসহ’ গ্রেপ্তার ৩
‘হুজির প্রধান অপারেশন সমন্বয়কসহ’ গ্রেপ্তার ৩

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে শুক্রবার (৫ মার্চ) এস সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সিটিটিসি। এসময় তাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ১টি গাড়ি, ৫টি মোবাইল, ১টি মাইক্রোফোন, ১টি চাপাতি, ২টি ছোরা, ১০টি ডেটোনেটর, ১৭০টি বিয়ারিং লোহার বল, ১টি স্কচটেপ, ৫ লিটার অ্যাসিড, ৩টি আইডি কার্ড ও উগ্রবাদী বার্তার বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় সিটিটিসি।

গ্রেপ্তার তিনজন হলো- মো. মাইনুল ইসলাম (৪২), শেখ সোহান স্বাদ (২৫) ও মুরাদ হোসেন কবির (৪৩)।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সিটিটিসি জানায়, হুজিবি’র অপারেশন শাখার প্রধান মাইনুলের নেতৃত্বে তারা সংগঠনকে পুনরায় সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল। এজন্য সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ শুরা কমিটি প্রস্তুত করা, সংগঠনের অর্থদাতা এবং সদস্যদের কাছ থেকে অর্থের জোগান নিশ্চিতের পাশাপাশি ব্যাপকহারে সংগঠনের রিক্রুটমেন্ট করছিল। একইসঙ্গে নাশকতার জন্য অস্ত্র সংগ্রহ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ, কারাগারে আটক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের জামিনের ব্যবস্থা করা, বান্দরবান-নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় জমি লিজ নিয়ে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার কাজে নিয়োজিত ছিল।

মইনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে হুজি’র প্রধান অপারেশন সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তার পরিকল্পনা ছিলো রাজধানী ঢাকা শহরে বড় ধরনের নাশকতা করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা।

এর আগে ২০১৫ সালে হুজির শীর্ষ নেতা কারাবন্দি মুফতি মঈনউদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল।

শেখ সোহান সুনামগঞ্জের বিবিয়ানা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকার মিরপুর বাংলা কলেজে পড়ার পাশাপাশি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতো। ২০১৬ সালে ঢাকায় একুশে বই মেলায় নাশকতার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এছাড়াও সোহান ২০১৭ সালে আরেকটি বিস্ফোরক মামলায় এবং ২০১৯ সালে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলা গ্রেপ্তার হয়। জামিনে বের হয়ে সে মাইনুলের নেতৃত্বে হুজি সংগঠনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল।

মুরাদ হোসেন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী’র সক্রিয় সদস্য। সে ব্যবসার আড়ালে হুজি সংগঠনের দাওয়াতি ও বায়তুল মালের দেখভালের দায়িত্ব পালন করতো।

আজকের সকাল সন্ধ্যা / ajker sokal sondha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *